খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ভবন নির্মাণ নেই কোন আইনি পদক্ষেপ।
খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ভবন নির্মাণ নেই কোন আইনি পদক্ষেপ।
জীবনযাপন updated 1 month ago

খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ভবন নির্মাণ নেই কোন আইনি পদক্ষেপ।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর রিপোর্ট

শরীফ মোল্লা

খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ভবন নির্মাণ নেই কোন আইনি পদক্ষেপ।
শরীফ মোল্লা,
খুলনার দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে দখল হয়ে যাওয়া ওই জায়গাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এ বিষয়ে নির্বিকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও সচেতন মহল। 

জানা গেছে, উপজেলার কোলাবাজার থেকে শুরু করে গাজিরহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা পাকা দোকানঘর ও একাধিক জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় গাজিরহাট সোনাকুড় সুইচগেটের পাশে আপন দুই ভাই নাসের শরীফ ও অহেদ শরীফ বিশাল আকৃতির পাঁচ থেকে ছয়টি রুম করে ছাদ দিয়ে ২টি বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন, আরেকটি নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে নাসের শরীফ বলেন আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নিয়েছি তাছাড়া এ এলাকায় অনেক ঘর আছে স্থানীয় আনিস মেম্বর দোতলা করেছে সোহাগ শেখ ছাদ দিয়ে বিল্ডিং করেছে আমরা করলে দোষ কোথায়। এছাড়াও আমবাড়ীয়া এলাকায় দেখা যায় কাসেম মুন্সি ১০ শতক ও আমিরুল মোল্লা ২০ শতক জমি দখল করে মাটি উঠিয়ে ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে। পাউবোর জায়গায় এরকম প্রায় ২ শত দোকানপাট রয়েছে অত্র অঞ্চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ও কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজসে দিন দিন স্থানীয় প্রভাবশালীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ভবন ও দোকানপাট গড়ে তুলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অনেকেই জানান, রহস্যজনক কারণে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড এসবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। 
এলাকার সচেতন মহল অনেকেই বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোটি কোটি টাকার জমি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। দখলদাররা গড়ে তুলছেন দোকান ও স্থাপনা। কোনো কোনো দখলদার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জমির দখলস্বত্ব হস্তান্তর করছেন, আবার কেউ পাকা স্থাপনা করে চড়া মূল্যে অন্যের কাছে বিক্রি করছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই পাউবোর জমি বেদখল হয়ে আসছে। এক-এগারোর সময় পাউবোর বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যোগে সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু রাজনৈতিক প্রভাবে বেপরোয়াভাবে কোটি কোটি টাকার জমি দখল প্রক্রিয়া শুরু করে। তারা অবৈধভাবে নির্মাণ করছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয়সহ নানা স্থাপনা। এসব জমির দখলস্বত্ব হস্তান্তরও হচ্ছে চড়া মূল্যে। প্রতি শতক জায়গা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকায়। অবৈধ দখলদাররা পাঁচ-সাতটি পুকুরও দখল করে মাছ চাষ করছে বছরের পর বছর এছাড়াও রয়েছে একটি গরুর হাট।
বর্তমানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত থাকলেও প্রতিদিনই দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় আর কতদিন অবশিষ্ট জায়গা দখলমুক্ত থাকবে এটা অনিশ্চিত। 
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা প ও র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রহমান তাসকিয়া বলেন আমাদের আওতায় কোথাও কোন জমি ইজারা দেওয়া নাই অনেক আগে ছিল তবে এবছর ইজারা কার্যক্রম শুরু হতে পারে। বিগত দিনে ডুমুরিয়া বাজার,কৈয়া বাজার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পাউবোর  বেদখল হওয়া জায়গায় আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। এছাড়াও আমার অধীনে পাউবোর যে সমস্ত জায়গা অবৈধ দখলে আছে খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0
0
0
0
0
0
0
0
0
0 Comments

Follow Us on Facebook