যশোরে লাইসেন্স বিহীন ডাক্তার নার্স ছাড়া চলছে ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা হুমকিতে।
যশোরে লাইসেন্স বিহীন ডাক্তার নার্স ছাড়া চলছে ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা হুমকিতে।
জীবনযাপন updated 2 months ago

যশোরে লাইসেন্স বিহীন ডাক্তার নার্স ছাড়া চলছে ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা হুমকিতে।

রোগীদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে অবৈধ ক্লিনিকের অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

রিয়াজউদ্দিন,

যশোরে লাইসেন্স বিহীন ডাক্তার নার্স ছাড়া চলছে ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা হুমকিতে।
রিয়াজউদ্দিন
যশোরের মনিরামপুরে কপালিয়া নামক স্থানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে উঠেছে কপালিয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই অনিবন্ধিত ভুয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার নার্সবিহীন চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।  চিকিৎসা সেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে আসছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে এসমস্ত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও থেমে থাকছে না তাদের প্রতারণার কার্যক্রম।

এসব অবৈধ ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসক, অনভিজ্ঞ নার্স, অদক্ষ আয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। জানা যায় এই ক্লিনিকের মালিক নাকি ৪০ জন, এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ পারভেজ  যার  সাথে কথা বললে তিনি বলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তার শামিমউজ্জামানকে এনে তারা ক্লিনিক উদ্বোধন করেছেন। ডাক্তার ও ডিপ্লোমাধারী নার্সের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন কল করলেই ডাক্তার আসে আর একজন ডিপ্লোমাধারী নার্স আছে। ফলে এ সমস্ত অবৈধ ও অনিয়ন্তান্ত্রিকভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতালে প্রতিদিনই ঘটছে নানা অঘটন।  এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন প্যাথলজিস্ট ডাক্তার এর সই সিল নকল করে রিপোর্ট পেশ করা হয় বলে জানা যায়।এ সমস্ত কারণে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে রোগীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এমনকি এ সমস্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্যও নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এমন অবস্থায় দেশের অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নির্দেশনা দিয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবার পুনরায় তারা চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা শুরু করে দেয় সাধারণ রোগীদের সাথে।
ইতিমধ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে  ঢাকাসহ সারা দেশে বেশ কিছু সংখ্যাক ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চিলগালা ও জরিমানা করা হয় কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই তারা আবার প্রতিষ্ঠান চালু করে দেয়।

 সমাজের সচেতন মহল ও বিশিষ্ট জনেরা বলেন, এ ধরনের অভিযান নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। তবে পাশাপাশি এ প্রশ্নও রয়েছে, তাদের কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে এসব অবৈধ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র কীভাবে গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে আবেদনের পর স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টোকেন, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন ক্লিনিক মালিকরা। এসব অবৈধ-নিবন্ধনহীন ক্লিনিক-হাসপাতাল বন্ধে নানা সময় অভিযান পরিচালিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ক্লিনিক-হাসপাতালগুলোর দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন মানহীন এসব ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এমনকি ভুল চিকিৎসা ও ভুল রিপোর্টে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেককে। অনেক রোগীর জীবনও চলে যাচ্ছে ভুল চিকিৎসায়। সেবার মান নিশ্চিতে আইন অনুযায়ী চব্বিশ ঘন্টা এমবিবিএস ডাক্তার ও ডিপ্লোমাধারি নার্স  থাকার কথা থাকলেও দৃশ্যমান কাউকেই পাওয়া যায় না, নেই কোন সঠিক জনবল ব্যবস্থা। এ অবস্থায় বিশিষ্টজনেরা মনে করেন সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

0
0
0
0
0
0
0
0
0
0 Comments

Follow Us on Facebook